২৪ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাদক পাচারের মামলায় ২ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম রোববার (৩০ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। একই আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দন্ডিত আসামীদের পরিচয় :
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং গ্রামের মৃত কাদের বকসুর পুত্র আবদুর রহমান (৩০) এবং একই ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আবদুস সালামের পুত্র মোহাম্মদ নুর (২৫)। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র পক্ষে একই আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
২০২২ সালের ১৬ জুন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের এমজি ব্যাংকার এলাকায় কয়েকজন লোক মায়ানমারের শূন্য রেখা অতিক্রম করে আসার সময় টেকনাফস্থ ২ বিজিবি’র একটি টিমকে দেখে ২জন লোক ২ টি বস্তা ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় বিজিবি সদস্যরা আবদুর রহমান এবং মোহাম্মদ নুরকে আটক করে। তাদের ফেলা দেওয়া একটি বস্তা থেকে ২১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ এবং আরেকটি বস্তা থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যের এক লক্ষ পিচ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় টেকনাফ বিজিবি’র নায়েক মোঃ আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে ধৃত আবদুর রহমান এবং মোহাম্মদ নুর সহ ৬ জনকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ৬১, তারিখ : ১৬/০৬/২০২২ ইংরেজি, যার জিআর মামলা নম্বর : ৫৭৫/২০২২ ইংরেজি (টেকনাফ) এবং এসটি মামলা নম্বর : ৫২০/২০২৩ ইংরেজি।
বিচার ও রায় :
মামলাটি বিচারের জন্য ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারকার্য শুরু হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীদের পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রোববার দিন ধার্য্য করা হয়।
রায় ঘোষণার দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১০(গ) সারণি মতে মামলার আসামী আবদুর রহমান এবং মোহাম্মদ নুরকে দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ড কারাদন্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডিত আসামীদ্বয়কে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হয়ছে বলে বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন।
