
রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে পুরোপুরি উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি থাকায় জনভোগান্তির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আংশিকভাবে বিকল হয়ে থাকা। এরই মধ্যে একটি বয়লারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে পুরো টার্মিনাল সচল করতে হলে বর্তমানে চালু থাকা বয়লারটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়াতে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে সেমিনারে অংশ নেওয়া জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের সহজ কোনো পথ নেই। তাদের মতে, গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।