
শ্যাম্পু বদলানো, চুলে তেল দেওয়া কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেও অনেকের খুশকি পুরোপুরি দূর হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকিকে শুধু মাথার ত্বকের শুষ্কতা বা অপরিচ্ছন্নতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থার পরিবর্তন থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খুশকির অন্যতম কারণ ম্যালাসেজিয়া নামের এক ধরনের ইস্ট-সদৃশ অণুজীব। এটি সাধারণত মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। তবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, তেল, দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
ম্যালাসেজিয়া মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ব্যবহার করে। এ প্রক্রিয়ায় তৈরি কিছু উপাদান ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এতে চুলকানি বাড়ে এবং মাথার ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে। এর ফলেই খুশকি দেখা দেয়।
অনেক সাধারণ শ্যাম্পু মাথার ত্বকে জমে থাকা সাদা বা তৈলাক্ত খোসা সাময়িকভাবে পরিষ্কার করে। কিন্তু খুশকির পেছনে থাকা অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণ না হলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
খুশকি সাধারণত তৈলাক্ত ও শুষ্ক—এই দুই ধরনের হতে পারে। তৈলাক্ত খুশকি অতিরিক্ত সিবাম ও ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের খুশকির আঁশ সাধারণত হলদে, মোটা বা আঠালো হয়। অন্যদিকে শুষ্ক খুশকির আঁশ সাধারণত ছোট, সাদা ও গুঁড়োর মতো হয়ে থাকে।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথায় ঘাম ও সিবামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরে থাকা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা কিংবা মাথার ত্বকে ঘাম জমে থাকলেও খুশকি বাড়তে পারে।
খুশকি নিয়ন্ত্রণে শুধু মাথার ত্বকের খোসা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়। শ্যাম্পু কেনার সময় পিরোকটোন ওলামাইনের মতো অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখা যেতে পারে। এসব উপাদান ম্যালাসেজিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
খুশকি কমে গেলেই শ্যাম্পু পুরোপুরি বন্ধ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে খুশকি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা সমস্যা।
খুশকি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ঘাম হলে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা, টুপি ও হেলমেট নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে বা ঢেকে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করাও উপকারী হতে পারে।
খুশকি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, তীব্র চুলকানি বা মাথার ত্বকে প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।