
স্মার্টফোন দ্রুত চার্জ হওয়া এখন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা। কয়েক বছর আগেও ৩০ ওয়াট চার্জিংকে দ্রুত মনে করা হলেও বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ১০০ ওয়াটের বেশি ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এত দ্রুত চার্জিং ফোনের ব্যাটারির ক্ষতি করে কি না, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।
সংক্ষেপে উত্তর হলো, ফাস্ট চার্জিং নিজে থেকেই ফোনের ব্যাটারি নষ্ট করে না। তবে চার্জিংয়ের সময় তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
বর্তমান স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারির ভেতরে লিথিয়াম আয়নের সঞ্চালনের মাধ্যমে শক্তি জমা হয়। ফোন ব্যবহারের সময় এই প্রক্রিয়া বিপরীত দিকে ঘটে। চার্জ ও ডিসচার্জের সময় স্বাভাবিকভাবেই তাপ তৈরি হয়, তবে দ্রুত চার্জিংয়ের সময় ফোন তুলনামূলক বেশি গরম হতে পারে।
দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি আগের তুলনায় অনেক উন্নত। বর্তমানে অধিকাংশ ফোন চার্জিংয়ের সময় তাপমাত্রা, ভোল্টেজ ও বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ফোন ও চার্জার নির্মাতার নির্ধারিত প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে ফাস্ট চার্জিং সাধারণত নিরাপদ। ব্যাটারির তাপমাত্রা বেশি বেড়ে গেলে অনেক স্মার্টফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দেয়।
তবে চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফোন রোদে রেখে চার্জ করা, বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ দেওয়া এবং নিম্নমানের বা অননুমোদিত চার্জার ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা ভালো।
অর্থাৎ, ফাস্ট চার্জিং নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ফোনের ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু দ্রুত চার্জিং নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত তাপের মধ্যে থাকা। সঠিক চার্জার ও নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে ফাস্ট চার্জিং দৈনন্দিন ব্যবহারে সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে না।