
বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার সাগর থেকে ঘাটে ফিরতে হওয়ায় কক্সবাজারের মাছ ব্যবসায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। মাছ ধরার সময় কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ট্রিপে লাখ লাখ টাকা খরচ হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। এতে লোকসান ও ঋণের বোঝায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ট্রলার মালিকরা। মাছ না পেয়ে আয় হারাচ্ছেন জেলেরাও।
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে ট্রলারে ডিজেল, বরফ, খাবার ও জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু যাত্রার পরপরই তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলে মাছ ধরার আগেই ঘাটে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। বারবার এমন পরিস্থিতির কারণে শত শত ট্রলার নোঙর করে পড়ে থাকছে।
জেলেদের অভিযোগ, মহিপুর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে যাত্রা করেও অনেক সময় সামান্য মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। তাদের দাবি, গত দুই মাসে একবারও ঠিকমতো মাছ পাওয়া যায়নি।
একটি ট্রিপে জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা। কিন্তু মাছ বিক্রি করে অনেক ক্ষেত্রে আয় হচ্ছে মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। ফলে বারবার লোকসানের কারণে কেউ ট্রলার নোঙর করে রাখছেন, আবার কেউ ট্রলার বিক্রি করে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে ট্রলার সাগরে পাঠানোর পর মাছ নিয়ে ফিরলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বিক্রি করে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও প্রজনন রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি। কক্সবাজার মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, মাছ আহরণকারী ও চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের বীমার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ছয়বার তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সতর্ক সংকেত জারি হলে দ্রুত উপকূলের কাছাকাছি চলে এসে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির দাবি, গত দুই মাসে প্রায় ৩ হাজার মাছ ধরার ট্রলারে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে মাছের সংকট অব্যাহত থাকলে কক্সবাজারের মাছ ব্যবসার পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।