
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যানবাহনের চাপ বেশি এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমীক্ষার কাজ চলছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া বাইপাস, দোহাজারী, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ও চকরিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব এলাকায় যানজট নিরসনে মহাসড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক এন-১ হিসেবে পরিচিত। এর বিভিন্ন অংশ তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়।
আবার বেশ কয়েকটি স্থানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এসব এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত তিন বছরে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চুনতিসহ কয়েকটি এলাকায় বিপজ্জনক বাঁকে অন্তত ২০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এরপরই প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট জরিপ ও অন্যান্য কার্যক্রমে গতি বাড়ে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনা এ মহাসড়কের নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মাতারবাড়ীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
ভবিষ্যতের যানবাহন ও বাণিজ্যিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু করা প্রয়োজন। তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে, কমবে যাতায়াতের সময়।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটন, শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ মহাসড়কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই শুধু ছয় লেনে উন্নীত করলেই হবে না, বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আবু ঈসা আনসারী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতে বন্দর, শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ বিবেচনায় ছয় লেনের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা দরকার।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য জরিপসহ অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পে প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাশাপাশি মহাসড়কের আরও প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। ওই অংশের উন্নয়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।