
টানা পাঁচ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ ও পর্যটকেরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। ডলফিন মোড় থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট, নিরিবিলি অর্কিড, লাবণী পয়েন্ট, বাজারঘাটা, বৌদ্ধমন্দির রোড, রুমালিয়ার ছড়া, সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন, বিজিবি ক্যাম্প ও সদর উপজেলা পরিষদ এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে মাটি ও বালু প্রধান সড়কে জমে কোথাও কোথাও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রুমালিয়ার ছড়া, সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন ও সদর উপজেলা পরিষদ এলাকার সড়কে হাঁটুসমান কাদা জমে যানবাহন আটকা পড়ে। ড্রেনগুলো পাহাড়ি মাটি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পাহাড় কাটার ফলে বৃষ্টির সময় মাটি ধুয়ে শহরের সড়কে চলে আসছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা হাজার হাজার পর্যটক হোটেলে অবস্থান করছেন। বৈরী আবহাওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও চার থেকে পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগরে যেতে পারছে না। গতকাল বঙ্গোপসাগরে একটি ফিশিং বোট ডুবে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উত্তাল সাগরের কারণে কক্সবাজারে একসঙ্গে কয়েক ধরনের দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সড়ক থেকে পাহাড়ি মাটি সরানো না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।