
দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৮ শতাংশে পৌঁছানো আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে এখনো বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশ মৌলিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাক্ষরতা শুধু বর্ণমালা চেনা বা নাম স্বাক্ষর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে সাক্ষরতাকে যুক্ত করা হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ চালু রয়েছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ স্থায়ী চাকরি, শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ বা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করতে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।