
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ফোন হাতে নেওয়া এবং সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে ডুবে থাকা অজান্তেই মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনের বাহ্যিক চাপের পাশাপাশি মস্তিষ্কে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকাও দ্রুত অবসাদ ও মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন সীমিত একটি সামাজিক পরিমণ্ডলের সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী হয়ে গড়ে উঠেছে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে দূরবর্তী অঞ্চলের যুদ্ধ, সংকট, অন্যের সাফল্য কিংবা ভ্রমণের নানা দৃশ্য সারাক্ষণ মানুষের চোখের সামনে চলে আসছে। ফলে নিজের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই—এমন অসংখ্য বিষয় নিয়েও মানুষ অবচেতনভাবে মানসিক চাপ অনুভব করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনাও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কারণ সামাজিক মাধ্যমে সাধারণত মানুষের জীবনের বাছাই করা আনন্দের মুহূর্তগুলোই দেখা যায়, পুরো বাস্তবতা নয়। ফলে এই কৃত্রিম তুলনায় জড়িয়ে পড়ে অনেকে নিজের জীবন, সক্ষমতা ও অর্জন নিয়ে অযাচিত অতৃপ্তিতে ভুগতে পারেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই মানসিক ক্লান্তি কমাতে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক শৃঙ্খলা আনা জরুরি। দীর্ঘ সময়ের সব দুশ্চিন্তা একসঙ্গে মাথায় না নিয়ে কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে আর কোনটি কেবল তথ্য—এই পার্থক্য বুঝে অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে নিজের মানসিক দায় হিসেবে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমারেখা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সারাক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদ অনুসরণ না করে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় এসব থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা এবং কর্মঘণ্টা শেষে ব্যক্তিগত সময় আলাদা রাখলে মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তি ফিরতে পারে।
সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় তথ্য, অতিরিক্ত সচেতনতা ও অন্যের সঙ্গে তুলনা কমানোই মানসিক ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।