
কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ সোমবার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের অবকাশ শেষে দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। ফলে ওই সময় পর্যন্ত বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত ইসিএ ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ কক্সবাজার পৌরসভার প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত মাসে রিট করে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। একই সঙ্গে বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধে আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রুলে কক্সবাজার পৌরসভার ওই সড়ক নির্মাণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি ইতিমধ্যে নির্মিত সড়কের অংশবিশেষ অপসারণ করে সমুদ্রসৈকত ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরিবেশসচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ বিবাদীরা লিভ টু আপিল করেন। সোমবার আপিল বিভাগ সেই আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী ও হাসানুল বান্না।
বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকবে। ২৫ অক্টোবর আদালত খোলার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেলার অভিযোগ, ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বিশাল এলাকা ভরাট করে প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় উপকূল সুরক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত বহু বছরের বালিয়াড়ি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরলতাসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বেলা আরও বলেছে, সমুদ্রসৈকতের ইসিএ এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায় ও আদেশ দিয়েছেন। এসব আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার সৈকত রক্ষায় জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আপিল বিভাগের আদেশের ফলে আপাতত কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধই থাকছে।