
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে মাছটি ধরা পড়ে।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, তিনি ১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ ধরছেন। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে। দীর্ঘ সাত বছর পর এত বড় ইলিশ পাওয়ায় তিনি খুশি।
মাছটি কিনে নেওয়া মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে এত বড় ইলিশ এখন খুব কম দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠাবেন। এ ধরনের বড় মাছ পাওয়া গেলে আড়তদার ও জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হতে পারেন বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার অভাবে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তনও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বড় ইলিশ ধরা পড়া অত্যন্ত ভালো খবর এবং এটি নিষেধাজ্ঞার সুফলও হতে পারে। বড় ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে এ ধরনের বড় মাছ আরও বেশি ধরা পড়তে পারে বলে জানান তিনি।