
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে বহাল রাখার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শনিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
দুপুর থেকে লাল কার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অংশ নেন। শিক্ষক ও কর্মচারীদের পৃথক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, সাবেক উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিলেন। নতুন উপাচার্য আন্দোলনকে ৩০-৩৫ জনের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করায় তার বক্তব্য এবং অনলাইনে যোগদানের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদেই বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষকরা পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে। শুক্রবার রাত থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চুয়েট শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও কর্মবিরতি ঘোষণা করে।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কাজ শুরু করতে চান তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।