
কক্সবাজারের পেকুয়া উপকূলকে ঘিরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকায় সামুদ্রিক বাতাস কাজে লাগিয়ে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বড় পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে পেকুয়ায় প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব একনেক সভায় উঠেছে।
কক্সবাজারের খুরুশকুল, পিএমখালী, পোকখালী ও চৌফলদণ্ডী এলাকায় ২২টি টারবাইন নিয়ে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ৮২ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাতাসের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ মিটারের বেশি হলে উৎপাদন শুরু হয় এবং ৯ মিটারের বেশি হলে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পেকুয়ার মগনামা, উজানটিয়া ও রাজাখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি বাতাসের গতি ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের আগে বাতাসের গতি, ভূমির ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব ও গ্রিড সক্ষমতা যাচাই জরুরি। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও জীবিকার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।