
কক্সবাজার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কস্তুরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর তীর ও নবনির্মিত কক্সবাজার-খুরুশকুল ব্রিজসংলগ্ন ময়লার ভাগাড় সরিয়ে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কক্সবাজার পৌরসভা প্রাঙ্গণে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আট মহল্লা সমাজ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কস্তুরাঘাট এলাকায় শহরের বর্জ্য ফেলার কারণে বিশাল ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক বর্জ্য সেখানে ফেলা হয়।
পরিবেশবাদীদের হিসাবে, কক্সবাজার শহরে প্রতিদিন ৯৭ টনের বেশি বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ টন কস্তুরাঘাট এলাকায় ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বছরের পর বছর বর্জ্য জমে সেখানে ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচু বর্জ্যের পাহাড় তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্য ফেলার কারণে বাঁকখালী নদীর তীর ও নদীর অংশবিশেষ ভরাট হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্জ্য থেকে নির্গত তরল মাটিতে মিশে ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত ও লবণাক্ত হয়ে পড়ায় এলাকার অনেক পরিবার পৌরসভার সরবরাহ করা পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নিয়মিত পানি না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে শিশু, নারী ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
কক্সবাজার শহরের বর্জ্য সংকট নিরসনে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথাও মানববন্ধনে তুলে ধরা হয়। তবে বক্তারা বলেন, শুধু বর্তমান ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিলে স্থায়ী সমাধান হবে না। বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা, জৈব বর্জ্য থেকে সার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা আরও বলেন, কক্সবাজার পর্যটননির্ভর শহর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বর্জ্যের পাহাড় পর্যটননগরীর ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য জমে বর্ষায় ড্রেন ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে কস্তুরাঘাটের ময়লার ভাগাড়ের আশপাশে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে।
বক্তারা জানান, এর আগেও ভাগাড় সরানোর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে সরানোর আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা নভেম্বরের মধ্যে ময়লার ডিপো সরানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
পরে আট মহল্লা সমাজ কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দ্রুত কস্তুরাঘাটের ভাগাড় সরিয়ে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং বাঁকখালী নদী দূষণমুক্ত করার দাবি জানান তারা।