
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সোহেল খান নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটি বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ টাকায়। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা।
ভোরে কুয়াকাটার বাংলার ঘাটসংলগ্ন সাগর এলাকায় খুঁটা জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সকাল ১০টার দিকে জেলে সোহেল খান মাছটি আড়তে নিয়ে আসেন। নিলামে কুয়াকাটা ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী মাছটি কিনে নেন। পরে মাছটি ঢাকায় পাঠানোর কথা জানান তিনি।
জেলে সোহেল খান বলেন, প্রায় ৯-১০ বছর ধরে উপকূলীয় এলাকায় খুঁটা জাল দিয়ে ইলিশ ধরছেন তিনি। প্রায় তিন বছর পর এবার এত বড় একটি ইলিশ পেয়েছেন। তবে ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় শিগগিরই জাল গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় ইলিশের দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ৩-৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও জানান, বড় ইলিশ বেশি দামে কিনলে পর্যটকদের কাছেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। বর্তমানে ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, কিছুটা বড় ইলিশ প্রায় ১ হাজার টাকা, মাঝারি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বড় ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অতিরিক্ত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের চলাচলে বাধা, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তনও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, বড় ইলিশ ধরা পড়া ভালো খবর এবং এটিকে নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবেও দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর থেকে প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে। এদিকে কলাপাড়ার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন।