
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ না দেওয়ায় এসব পদ শূন্য রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। এরপর সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলে ১৩ হাজার ৮৩১ জন তা জমা দেন। বাকি ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় মোট ৫৫৩ জন নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগ দেন। আর ৯১৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন ও নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি, আবার কেউ কেউ নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও কাজে যোগ দেননি। তাদের কেউ অন্যত্র চাকরি পাওয়ায় সেখানে যোগ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বড় একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। তাই শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।