
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মাছকারিয়া শাপলা বিল প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত জলরাশি দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন শত শত দর্শনার্থী।
উখিয়া সদর থেকে কাছেই অবস্থিত এই বিল একসময় প্রচুর মাছের জন্য পরিচিত ছিল। স্থানীয়ভাবে ‘মাছের কাঁইজ্জা’ নাম থেকে মাছকারিয়া নামের উৎপত্তি বলে জানা যায়। সময়ের সঙ্গে মাছের প্রাচুর্য কমলেও এখন লাল শাপলার সৌন্দর্যে নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে বিলটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও বাড়ছে।
নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দর্শনার্থীদের অনেকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলটির সৌন্দর্য দেখেই তাঁরা ঘুরতে আসার পরিকল্পনা করেছেন। তবে শাপলার পূর্ণ প্রস্ফুটিত রূপ দেখতে ভোরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
এক দর্শনার্থী জানান, ফেসবুক ও ইউটিউবে শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। সন্ধ্যায় আসায় ফুলের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে না পারলেও এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ তাঁর ভালো লেগেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় মাছকারিয়া বিলটি প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের সম্ভাবনাময় স্থান হয়ে উঠতে পারে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এর সৌন্দর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
তবে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা জরুরি। নির্বিচারে শাপলা তোলা, জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে দর্শনার্থীদের। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে মাছকারিয়া শাপলা বিলের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে কক্সবাজারের পর্যটন আকর্ষণ আরও বাড়ানো সম্ভব।