
জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম।
গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগে আন্তর্জাতিক বিরতিতে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হয় ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে। তাঁর দাবি, কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ার্ম-আপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাঁকে। এ নিয়ে কোচের ওপর ক্ষুব্ধ হন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। তবে কোচ জর্জ জেসুস তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রোনালদোর দলে ফেরার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।
ক্যাম্প ছাড়ার পর সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান রোনালদো। নিজের আচরণকে ভুল স্বীকার করে তিনি জানান, জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। শাস্তি মেনে নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে আবারও খেলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের তদন্তে রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর বিপুল আয়ের তুলনায় ২৫৫ ইউরোর জরিমানাকে প্রতীকী শাস্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
নিষেধাজ্ঞা গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। তবে এই সময়ের মধ্যে কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং ইতোমধ্যে পার হওয়া দিনগুলো শাস্তির মেয়াদে কীভাবে গণনা করা হবে, তা ফেডারেশন এখনো স্পষ্ট করেনি।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রোনালদোকে আবার জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহী ফেডারেশন। আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে জাতীয় দলের স্কোয়াডে রোনালদোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এখন অপেক্ষা ফুটবলপ্রেমীদের।