
জরুরি মুহূর্তে ছবি তুলতে গিয়ে কিংবা নতুন অ্যাপ ইনস্টল করতে গিয়ে অনেক সময় ফোনে ‘স্টোরেজ স্পেস শেষ’ বার্তা দেখা যায়। প্রতিদিন ছবি-ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড এবং অনলাইন কনটেন্ট সংরক্ষণের কারণে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় স্মার্টফোনের মেমোরি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অ্যাপের ক্যাশ ফাইল, মেসেজিং অ্যাপের মিডিয়া, ডাউনলোড করা নথি ও অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট।
ফোনের স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও ভিডিও। ৫০, ১০৮ কিংবা ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় তোলা ছবি তুলনামূলক বেশি জায়গা নেয়। একইভাবে ফুল এইচডি ও ফোরকে ভিডিও কয়েক মিনিটেই কয়েকশ মেগাবাইট থেকে কয়েক গিগাবাইট পর্যন্ত জায়গা দখল করতে পারে। একই ছবির একাধিক কপি, স্ক্রিনশট ও সম্পাদিত ছবির মূল ফাইলও স্টোরেজে জমতে থাকে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো অ্যাপ ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওর অস্থায়ী ফাইল বা ক্যাশ ফোনে জমা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে এসব ফাইলের পরিমাণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আদান-প্রদান করা ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হলে অজান্তেই অনেক জায়গা দখল করে। বড় আকারের গেম, ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপ এবং সেগুলোর অতিরিক্ত ফাইলও স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হওয়ার কারণ।
স্টোরেজ খালি করার আগে ফোনের সেটিংস থেকে কোন ধরনের ফাইল বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘স্টোরেজ’ এবং আইফোনে ‘আইফোন স্টোরেজ’ অপশনে গেলে অ্যাপ, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইলের জায়গা ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়।
স্টোরেজ খালি করার প্রথম উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ও স্ক্রিনশট মুছে ফেলা। একই ছবির একাধিক কপি এবং ব্যবহার না করা ভিডিও সরিয়ে দিতে হবে। তবে মুছে ফেলা ফাইল অনেক ফোনে ‘ট্র্যাশ’ বা ‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ ফোল্ডারে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থেকে যায়। তাই সেখান থেকেও স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসের ‘অ্যাপস’ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ‘স্টোরেজ’ থেকে ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার করা যায়। এতে কিছু জায়গা খালি হবে। তবে ‘ক্লিয়ার ডেটা’ অপশন ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। এতে অ্যাপের লগইন তথ্য, সেটিংস ও সংরক্ষিত ফাইল হারিয়ে যেতে পারে। আইফোনে অনেক অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করতে অ্যাপের নিজস্ব সেটিংস ব্যবহার করতে হয়।
তৃতীয়ত, হোয়াটসঅ্যাপের ‘স্টোরেজ অ্যান্ড ডেটা’ অপশন থেকে ‘ম্যানেজ স্টোরেজ’ নির্বাচন করে বড় ভিডিও, অপ্রয়োজনীয় ছবি ও নথি মুছে ফেলা যায়। স্বয়ংক্রিয় মিডিয়া ডাউনলোড বন্ধ বা সীমিত রাখলে অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমার প্রবণতা কমবে। মেসেঞ্জারসহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় মিডিয়াও নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।
চতুর্থত, দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপ ও গেম আনইনস্টল করা যেতে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের গেম, ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপ এবং একই ধরনের কাজের একাধিক অ্যাপ সরিয়ে ফেললে উল্লেখযোগ্য জায়গা খালি হতে পারে। তবে আনইনস্টল করার আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ফাইলের ব্যাকআপ রাখা জরুরি।
পঞ্চমত, ফোনের ফাইল ম্যানেজার থেকে ডাউনলোড ফোল্ডার পরিষ্কার করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পিডিএফ, ভিডিও, ছবি, নথি ও এপিকে ফাইল মুছে ফেললে স্টোরেজের ওপর চাপ কমবে। একই ফাইল একাধিকবার ডাউনলোড করা হলে বাড়তি কপিগুলোও সরিয়ে দেওয়া উচিত।
ষষ্ঠত, গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোস, আইক্লাউড কিংবা অন্য কোনো ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যায়। চাইলে কম্পিউটার বা বাহ্যিক স্টোরেজেও ব্যাকআপ রাখা সম্ভব। তবে ক্লাউডে ফাইল ঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ফোন থেকে মূল ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলা উচিত নয়। বিনা মূল্যে নির্ধারিত সীমার বেশি জায়গা ব্যবহার করতে হলে কোনো কোনো ক্লাউড সেবায় অতিরিক্ত স্টোরেজ কিনতে হতে পারে।
সপ্তমত, ফোনের জায়গা খালি করতে অপরিচিত থার্ড পার্টি ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। সব ক্লিনার অ্যাপ নিরাপদ বা কার্যকর নয়। কিছু অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দেখানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলতে পারে। তাই অপরিচিত অ্যাপের পরিবর্তে ফোনের নিজস্ব স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সুবিধা ব্যবহার করাই ভালো।
নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা, অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ছবি-ভিডিওর ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে স্মার্টফোনের স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।