
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য ও আসন সমঝোতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির তিন নেত্রী ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন, দলের আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি এবং একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা দল ছেড়েছেন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দল থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন তিনি। দলের ভেতরে ৩০ নেতার পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতি মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
এর পরদিন, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাজনূভা জাবীন। তাঁর অভিযোগ, অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে কৌশলে একটি বিশেষ দলের সঙ্গে জোট করার পথ তৈরি করা হয়েছে, যা এনসিপির মূল লক্ষ্য ও আদর্শের পরিপন্থী।
সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর দল ছাড়েন এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতকে সংস্কারের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করায় সাধারণ মানুষ এনসিপির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
দলের ভেতরে আপত্তি ও বিভেদ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নাহিদ, আখতার ও হাসনাতের নেতৃত্বে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। দলটি নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। তবে পদত্যাগী নেত্রীদের আশঙ্কা, এই জোটের কারণে এনসিপি নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা হারিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে অনড় রয়েছেন।