
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর হয়েছে এখনও এক বছর হয়নি। তাকে হারানোর শোক পরিবারে এখনও বহমান। আর এই সময়ই প্রথমবারের মতো ধর্মেন্দ্রর শেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী হেমা মালিনী। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, সম্প্রতি হিন্দি রাশ-এর একটি পডকাস্টে হেমা এ বসিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে ধর্মেন্দ্র পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে থাকার এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার বার্তাই দিয়ে গিয়েছিলেন।
হেমা মালিনী বলেন, ধর্মেন্দ্রর শেষ কথাগুলো ছিল, সবসময় পরিবারের সঙ্গে থেকো। যত কাজই থাকুক না কেন, পরিবারকে সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র সবসময় চাইতেন পরিবারের সদস্যরা যেন একে অপরের পাশে থাকেন এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখেন।
পডকাস্টে ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সানি দেওল ও ববি দেওল-এর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন হেমা মালিনী। তিনি বলেন, সানি আর ববি দুজনই দারুণ মানুষ। সানি খুব ভালো, ববিও অসাধারণ। আমরা সবসময় একসঙ্গেই থাকি। শুধু প্রচারের জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্ক দেখাই না। আমাদের মধ্যে গভীর পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। আমরা খুব সুখী একটি পরিবার।
প্রসঙ্গত, ষাটের দশকের শেষদিকে চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়েই পরিচয় হয় ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর। পরে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন ‘শোলে’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিম গার্ল’ এবং ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায়। পর্দার রসায়ন একসময় বাস্তব জীবনের প্রেমে রূপ নেয়। তখন ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর-এর সঙ্গে সংসার ছিল এবং তাদের চার সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে সানি দেওল ও ববি দেওল বর্তমানে বলিউডের পরিচিত অভিনেতা।
শুরুর দিকে হেমা মালিনীর পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী বিয়ে করেন। তবে ধর্মেন্দ্র তার প্রথম স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়নি। হেমা ও ধর্মেন্দ্রর সংসারে দুই মেয়ে ঈশা দেওল ও আহানা দেওল।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার পর কিছুদিন সুস্থ হয়ে বাড়িতেই ছিলেন ধর্মেন্দ্র। এরপর ২৪ নভেম্বর, মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ধর্মেন্দ্রকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের বহু তারকা, যার মধ্যে ছিলেন সালমান খান, শাহরুখ খান, আমির খান এবং অমিতাভ বচ্চন।