
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো অজান্তেই নিজেদের মূল্যবান ব্যবসায়িক ও মালিকানাধীন তথ্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা।
এক ব্লগ পোস্টে নাদেলা বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু অর্থ দিয়েই মূল্য পরিশোধ করতে হয় না, বরং আরও মূল্যবান সম্পদ—তাদের নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক কৌশলও এআই মডেলের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।
তার ভাষায়, “আপনি বুদ্ধিমত্তার জন্য দুবার মূল্য দিচ্ছেন। একবার অর্থ দিয়ে, আরেকবার আরও মূল্যবান কিছু দিয়ে। আপনি যত ভালো ফলাফল চাইবেন, এআই মডেলকে তত বেশি তথ্য দিতে হবে।”
নাদেলা জানান, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন ব্যবহারকারীরা এআইকে নতুন নির্দেশনা (প্রম্পট) দেন, সফটওয়্যার ব্যবহারের তথ্য শেয়ার করেন বা মডেলের ভুল সংশোধন করেন। কারণ, এসব তথ্য থেকেই এআই শেখে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ধীরে ধীরে মডেলের শেখার অংশ হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, এই ধরনের জ্ঞান কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অর্থ ব্যয় করেও সহজে অর্জন করতে পারবে না। অথচ অনেক প্রতিষ্ঠান উন্নত ফলাফল পাওয়ার আশায় নিজেরাই সেই তথ্য এআই মডেলের কাছে তুলে দিচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা নতুন নয়। এর আগে সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী জেসন ক্যালাকানিস এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্পও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন এআই মডেল ব্যবহারের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ তথ্য, কাজের ধরন ও ব্যবসায়িক কৌশল এসব মডেলের কাছে প্রকাশ করে ফেলছে।