
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়ায় সেখানে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। ইরানও জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করা জাহাজের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের তথ্য জানিয়েছে, যদিও এর কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকবে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।