
সমন্বিত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি বড় পর্যটন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে কক্সবাজার জেলার সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আফরোজা খানম বলেন, কক্সবাজারে পর্যটন সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইকো-ট্যুরিজম মডেল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দ্রুত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের আশা করছে। নতুন এই বিমানবন্দর চালু হলে কক্সবাজার বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে কক্সবাজারের জন্য একটি নতুন মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কক্সবাজারকে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
বৈঠকে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থী কেন্দ্র স্থাপন এবং কক্সবাজারে একটি ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অংশীজনদের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।