
ঢাকার উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থিত আলোচিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সেখানে মোট ২৯টি ছোট কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এটিকে ‘নির্মম টর্চার সেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ভবনটিতে ছোট ও বড় মিলিয়ে ২৯টি কক্ষ রয়েছে। নিচতলার কয়েকটি কক্ষ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শোবার জায়গাও নেই। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, এসব কক্ষে মানুষকে দীর্ঘদিন হাত ও চোখ বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাতটি কক্ষ ‘ডেথ সেল’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও ব্যারিস্টার আরমানসহ একাধিক ব্যক্তি এই সেলে আটক ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আটক ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা বা পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। বেআইনি আটক, নির্যাতন, গুম ও হত্যার অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভবনটির আলামত গোপন করতে দেয়াল তুলে কিছু অংশ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। দেয়াল অপসারণের পর ২৯টি কক্ষ এবং নিচতলার কথিত ‘ডেথ সেল’-এর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব দাবির বিরোধিতা করেছেন। তাদের বক্তব্য, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট ভবন নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স। তারা পরিদর্শিত স্থাপনাটিকেই কথিত ‘আয়নাঘর’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।