`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

মহেশখালীর সামিট-এক্সিলারেট চালু, গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 15, 2026 ইং
মহেশখালীর সামিট-এক্সিলারেট চালু, গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই এখন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।


শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও রাতে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়।


একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে এলএনজি থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।


দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও উল্লেখযোগ্য।


মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।


গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবার আবার কারিগরি সমস্যায় তা বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু হয়েছে।


অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মজুত এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালানো হয় এবং ধাপে ধাপে সরবরাহ কমানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার তা চালু হয়। শনিবার সকালে সামিট থেকে সরবরাহ প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।


তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে এবং এ সময় টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে ওই পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু হলে এক্সিলারেটের সরবরাহ আরও বাড়বে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমতে পারে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা'

গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা'