প্রায় দুই দশক পর আইফোনের নকশায় বড় পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে বাজারে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘ডুও’। বুধবার অ্যাপলের বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি প্রকাশ করা হয়।
বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় আইফোন ডুও। পুরোপুরি খুললে এটি ছোট আইপ্যাডের মতো দেখায়, আর ভাঁজ করলে পরিণত হয় তুলনামূলক চওড়া আইফোনে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস জানিয়েছেন, এর নকশায় আইপ্যাড থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে এবং ভাঁজ করার অভিজ্ঞতা স্বচ্ছন্দ ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে প্রযুক্তির নতুনত্বের সঙ্গে এর দামও বেশ চড়া। যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুওর প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সর্বোচ্চ কনফিগারেশনের দাম ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকার বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ভাঁজযোগ্য আইফোন উন্মোচনের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড মনে করেন, অ্যাপল সম্ভবত নতুন সিইওর নেতৃত্বের শুরুতেই বহু প্রতীক্ষিত এই বড় পণ্য উন্মোচন করতে চেয়েছে।
তবে উচ্চমূল্যের কারণে ডুও কতটা জনপ্রিয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপাঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, এটি অ্যাপলের ভিশন প্রোর মতো ব্যয়বহুল কিন্তু সীমিত জনপ্রিয়তার পণ্যে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ভাঁজযোগ্য ফোন মিলিয়ে স্মার্টফোন বাজারের প্রায় ২ শতাংশ দখল করেছে।
এদিকে অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে। পাশাপাশি নতুন এআই সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন সুবিধায় সিরি এআই আইফোনের মেসেজ, ই-মেইলসহ বিভিন্ন তথ্য খুঁজে ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে পারবে।
অ্যাপলের দাবি, এসব এআই সুবিধা ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় থাকবে। অনেক কাজ সরাসরি ডিভাইসেই সম্পন্ন হবে, ফলে তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে।
সূত্র: বিবিসি
BanglaDock