জাতীয় সংসদ দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক না হলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নয়; রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ীসহ সবার সম্মিলিত দায়িত্ব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক যদি এই সংসদ না হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে। কিন্তু আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পছন্দ-অপছন্দের রাজনীতি চলতে থাকলে দুর্নীতি দূর হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারসহ সব খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার ভাষায়, আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি, যা দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কেউই যেন ছাড় না পায়। প্রয়োজনে তিনি নিজেও যদি কোনো অনিয়মে জড়িত থাকেন, তাহলেও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি অর্থে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যক্তির নামে নামফলক স্থাপনের সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামফলক বদলাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়। এ সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।
এছাড়া রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি ঢাকার জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তারও আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
BanglaDock