স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ (শুক্রবার) পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বিকেলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। বিশেষ কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে শনিবার পদত্যাগের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। এদিকে থাইল্যান্ড সফরে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দেশে ফিরছেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন এবং পরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে তিনি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, তাহলে তা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
BanglaDock