ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার তাঁরা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করে এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। তখন ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। এখন দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন। মির্জা আব্বাস পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ভোট। ওই নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার ছিলেন। ফলে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হলেও নিজেকে ভোট দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত জামায়াত জোট তাঁকে প্রার্থী না করায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। পরে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। তবে সোমবার ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার এলাকা ছেড়ে আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যেকোনো আসনে প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তরে তাঁর অবস্থান ভালো এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। এ চিন্তা থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এনসিপি সর্বাত্মকভাবে এবং এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পরিচিত মুখদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি নির্বাচন করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে, তিনি যেন ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হন। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে আগে নির্বাচন করায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি ওই এলাকার ভোটার হয়েছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোট হবে না। ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের অন্তর্ভুক্ত আটটি আসনের চারটিতে এবং দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। জোট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন আগেভাগেই প্রচার শুরু করেছেন। সিটি নির্বাচন না হলে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শরিকদের ছাড় না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে দলটি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, সে হিসাবে সিটি নির্বাচনের এখনো আট থেকে দশ মাস সময় রয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
জোট সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার ও সরকারি দলের আচরণ কেমন হয়, তা দেখে পরবর্তী সময়ে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোট করা বা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
BanglaDock