`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারে ২৮০ অনলাইন প্রতারকের ঘাঁটি, গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 5, 2026 ইং
কক্সবাজারে ২৮০ অনলাইন প্রতারকের ঘাঁটি, গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজারে ঘাঁটি গেড়ে অনলাইন জুয়া ও নানা ধরনের প্রতারণা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্রের ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, চীন ও তাইওয়ানের প্রায় ২৮০ নাগরিক গত মার্চ থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করে অনলাইন জুয়া, অনলাইন শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


পুলিশ জানায়, প্রতারকচক্রটি কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এলাকার চারটি হোটেল ভাড়া নিয়ে সেগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ল্যাবগুলো সাউন্ডপ্রুফ করা ছিল এবং সেখানে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ ছিল না। সাধারণ ইন্টারনেটের পরিবর্তে স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করে তারা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, স্টারলিংক ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, প্রথমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে। চীনা দূতাবাসের একটি দল এসে তাদের প্রতারক হিসেবে শনাক্ত করার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারকচক্রের অন্য সদস্যরা ছয়জন গ্রেপ্তারের পর গা-ঢাকা দিয়েছেন। তারা যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারেন, সে জন্য ২৮০ জনের তালিকা ইমিগ্রেশন পুলিশের সব চেকপয়েন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।


গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিকের একটি দল গত ২৬ আগস্ট কক্সবাজারের হোটেল সি-প্যালেসে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে তারা কী উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছিলেন বা হোটেলে অবস্থান করে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ কিছু জানাতে পারেনি।


এদিকে আটক ছয় চীনা নাগরিককে শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হয়। রামু থানায় দায়ের করা মামলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রামু থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।


এত বিপুলসংখ্যক আইফোন মাত্র ছয়জনের কাছে কেন ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফোনগুলো একসঙ্গে কোনো দেশ থেকে আনা হয়েছিল কি না, বিভিন্ন সিম, ই-সিম বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হতো কি না কিংবা এগুলো ‘ডিভাইস ফার্ম’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না—এসব খতিয়ে দেখতে ফোনগুলো ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করবে পুলিশ।


একই সঙ্গে জব্দ করা স্টারলিংক টার্মিনাল কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে, বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছিল নাকি চোরাপথে আনা হয়েছে, কোন অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত ছিল, বিল কে পরিশোধ করত এবং বাংলাদেশে আসার পর কোথায় প্রথম সক্রিয় করা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কক্সবাজারের ২১৪ কোটি টাকার আইকনিক রেলস্টেশন তিন বছরেও চালু হ

কক্সবাজারের ২১৪ কোটি টাকার আইকনিক রেলস্টেশন তিন বছরেও চালু হ