কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা ডিজিটাল কাজ শিখতে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন চ্যাটজিপিটি, ক্লড, ক্যানভা ও অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে তুলনামূলক কম সময়ে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।
এআই ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য এসইও–বান্ধব কনটেন্ট লিখে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি ক্যানভা ব্যবহার করে লোগো, টি-শার্ট ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি করে দেশি-বিদেশি বাজারে সেবা দেওয়া সম্ভব।
গেম ডেভেলপমেন্টেও এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চ্যাটজিপিটির মতো টুল ব্যবহার করে গেমের গল্প, গেমপ্লে ধারণা এবং প্রয়োজনীয় কোড দ্রুত তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে নতুন ডেভেলপাররাও সহজ গেম তৈরি করে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে প্রকাশ করতে পারেন। গেমের বিজ্ঞাপন বা ইন-অ্যাপ পারচেজের মাধ্যমে নিয়মিত আয় করার সুযোগও রয়েছে।
ভিডিও এডিটিংয়ের ক্ষেত্রেও এআই বড় ভূমিকা রাখছে। ইনভিডিওসহ বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে স্ক্রিপ্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া ডেটা লেবেলিং, এআই ট্রেনিং, কোডিং সহায়তা এবং সফটওয়্যার বাগ ফিক্সিংয়ের মতো কাজেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে।
গবেষণা সহায়তাকারী বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারেন। এআই টুল ব্যবহার করে লিটারেচার রিভিউ, গবেষণা সংক্ষেপণ, রেফারেন্স বিন্যাস এবং তথ্য বিশ্লেষণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। আন্তর্জাতিক গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের এসব কাজে সহায়তা দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া সম্ভব।
এ ছাড়া ইংরেজি ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও এআই কার্যকর ভূমিকা রাখছে। চ্যাটজিপিটি ও বিশেষায়িত এআই টিউটরিং টুল ব্যবহার করে লেসন প্ল্যান, কুইজ ও স্পোকেন ইংলিশ কোর্স তৈরি করা যায়। এসব কনটেন্ট ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাচ পরিচালনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ বা আন্তর্জাতিক টিউটরিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এআই টুল ব্যবহার করলেই আয় সম্ভব নয়; বরং লেখালেখি, ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা, গবেষণা বা ভাষা দক্ষতার মতো মৌলিক দক্ষতা অর্জনের সঙ্গে এআই ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই আয় করার বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
BanglaDock