`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

নীল নদ থেকে যেভাবে মেস-বাড়ির ফ্রাইপ্যানে এলো তেলাপিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 21, 2026 ইং
নীল নদ থেকে যেভাবে মেস-বাড়ির ফ্রাইপ্যানে এলো তেলাপিয়া ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

ঢাকার ব্যাচেলর মেস থেকে মধ্যবিত্তের বাজার—সস্তা ও সহজলভ্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে তেলাপিয়া এখন বাংলাদেশের পরিচিত মাছ। তবে সাধারণ এই মাছটির পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, বৈশ্বিক খাদ্যসংকট, রাজপরিবারের উদ্যোগ এবং আধুনিক মৎস্যবিজ্ঞানের গল্প।


তেলাপিয়ার আদি নিবাস আফ্রিকা ও নীল নদ অববাহিকা। প্রাচীন মিশরে প্রায় চার হাজার বছর আগে থেকেই মাছটি খাদ্য ও সংস্কৃতির অংশ ছিল। পোনা মুখে আগলে রাখার বিশেষ আচরণের কারণে তেলাপিয়াকে উর্বরতা ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবেও দেখা হতো।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের সময়ে দ্রুত বংশবৃদ্ধি, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা এবং কম খরচে চাষের সক্ষমতার কারণে তেলাপিয়ার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে মাছটি এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।


১৯৬৫ সালে থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের মাধ্যমে নাইল তেলাপিয়ার চাষে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জাপানের তৎকালীন যুবরাজ আকিহিতো থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল অতুল্যতেজকে ৫০টি নাইল তেলাপিয়া উপহার দেন। পরে রাজপ্রাসাদ থেকে মাছটির পোনা দেশটির কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। থাইল্যান্ড থেকে পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার ঘটে।


বাংলাদেশে ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় প্রথম মোজাম্বিক তেলাপিয়া আনা হয়। তবে ছোট আকার ও দ্রুত বংশবৃদ্ধির কারণে এটি জনপ্রিয় হয়নি। ১৯৭৪ সালে উন্নত জাতের নাইল তেলাপিয়া দেশে আনা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে জিনগতভাবে উন্নত খামারি তেলাপিয়া বা ‘গিফট’ জাত বাংলাদেশে আসে। দ্রুত বর্ধনশীল এই জাত এবং পরবর্তী সময়ে মনোসেক্স চাষপদ্ধতি তেলাপিয়া উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আনে।


পুরুষ তেলাপিয়া স্ত্রী মাছের তুলনায় দ্রুত বাড়ে। তাই কৃত্রিমভাবে মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনের মাধ্যমে চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই বাণিজ্যিক আকারের মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়। ফলে দেশের মৎস্যচাষে তেলাপিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।


তবে তেলাপিয়ার আরেকটি দিকও রয়েছে। খামার থেকে বন্যা বা অন্য কোনো কারণে মাছটি নদী, বিল বা হাওরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মাছের সঙ্গে খাদ্য ও জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। তলদেশের মাটি খুঁড়ে বাসা তৈরির কারণে জলজ উদ্ভিদের ক্ষতি এবং পানির পরিবেশে পরিবর্তনের ঝুঁকিও রয়েছে।


তাই তেলাপিয়াকে এক কথায় নায়ক বা ভিলেন বলা যায় না। নিয়ন্ত্রিত চাষে এটি সস্তা ও সহজলভ্য প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কক্সবাজারে বন্দুকসহ দুজন গ্রেফতার

কক্সবাজারে বন্দুকসহ দুজন গ্রেফতার