নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম আবারও সাক্ষী হলো লিওনেল মেসির এক আবেগঘন মুহূর্তের। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
এক দশক আগে, ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই চিলির কাছে হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। ১০ বছর পর একই ভেন্যুতে আবারও চোখের জল ঝরল তার, তবে এবার সেই অশ্রু ছিল আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকার বেদনায়।
বিশ্বকাপের পুরো আসরে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মেসি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোলও করিয়েছেন। তবে ফাইনালে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও কৌশলী ফুটবলের সামনে প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হতাশার স্মৃতি নতুন নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে মেটলাইফেই জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও কয়েক মাস পর সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন।
ফিরে এসে তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দেন একের পর এক সাফল্য। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল মেসির সামনে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা দ্বিতীয়বার দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল এই কিংবদন্তির।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সঙ্গে মেসির সুখস্মৃতিও রয়েছে। ২০১২ সালে এই মাঠেই ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে এই ভেন্যুতে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৩৯ বছর বয়সী মেসি এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি। তবে বয়স ও সময়ের বাস্তবতায় আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার প্রতিটি ম্যাচই এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেটলাইফে তার অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
BanglaDock