নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গা নদীতে মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপালে যে তীব্রতার আকস্মিক ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।
নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদীর প্রবাহ হাজিপুর ও সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিলিত হয়। এরপর গঙ্গার পানি পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে গঙ্গা ও পদ্মা নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের পাহাড়ি ঢলের পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে কয়েকশ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করতে হবে। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া এবং অন্যান্য নদীর প্রবাহের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে ঢলের তীব্রতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
নেপালের আকস্মিক বন্যার পর ভারতের গণ্ডক অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি জেলায় পানির প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য নদীপথ অনুযায়ী, নেপালের ত্রিশুলি নদীর পানি নারায়ণী হয়ে গণ্ডক নদীতে প্রবেশ করে গঙ্গায় মিশতে পারে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশে এসে পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হওয়ার ভৌগোলিক সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নেপালের পাহাড়ি ঢলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করার সময় এখনো আসেনি। তবে ফারাক্কা এলাকায় পানির প্রবাহ, ভারতের গঙ্গা অববাহিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশের স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং পদ্মা নদীর নিজস্ব প্রবাহ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীতীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়ছে কি না, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালের বন্যার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে উজানের পানিপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও নদীবিষয়ক পরিস্থিতির ওপর। তাই আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
BanglaDock