`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই বন্ধ কারখানা চালুতে ১৭ ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 17, 2026 ইং
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই বন্ধ কারখানা চালুতে ১৭ ব্যাংক দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে ১৭টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এ অর্থ দেওয়া হবে।


চলতি সপ্তাহেই এসব ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রণোদনা তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ৩৭টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে।


প্রণোদনা প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালুর জন্য। বাকি অর্থের মাধ্যমে স্থবির শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাত গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে।


তবে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না করে বন্ধ কারখানায় নতুন করে অর্থায়ন করলে তা উল্টো ব্যাংকগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ জ্বালানির অভাবে বর্তমানে সচল অনেক কারখানাই উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না।


বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানা চালুর আগে বর্তমানে চালু থাকা কিন্তু বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। তার তথ্য অনুযায়ী, বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার থেকে কমে বর্তমানে ৮০০-এর মতো সক্রিয় রয়েছে।


অর্থনীতিবিদরা অবশ্য মনে করছেন, কম সুদে ঋণের মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা হলে নতুন করে বড় মূলধনী বিনিয়োগ ছাড়াই উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। তবে ঋণ বিতরণে সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, স্বচ্ছতা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণোদনা তহবিলের অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোন প্রতিষ্ঠান ঋণ পাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে উৎপাদনক্ষম কি না এবং ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নজরদারিতে থাকবে।


প্রণোদনা তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংক হলো সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।


এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে।


তবে ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে শুধু কম সুদের ঋণ দিয়ে বন্ধ কারখানা টেকসইভাবে চালু রাখা কঠিন হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
কীসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে, প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত

কীসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে, প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত