বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইয়ের আগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের একটি ১৯ বছরের পুরোনো ছবি। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবিতে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে একটি দাতব্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি।
ছবিটি ছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্ত–এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ। ক্যালেন্ডার বিক্রির অর্থ ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হতো। বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের নিয়ে তোলা সেই ছবিগুলোর মধ্যে সময়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে মেসি ও ইয়ামালের ছবিটি।
ছবিটির আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত পরে জানান, শুটিংটি সহজ ছিল না। লাজুক স্বভাবের মেসি এবং মাত্র পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে নিয়ে স্বাভাবিক একটি মুহূর্ত তৈরি করতে বেশ সময় লেগেছিল। তবে ইয়ামালের মা শেইলা এবানার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত একটি স্মরণীয় ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়।
সেই সময় ইয়ামালের পরিবার বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরে বাস করত। কয়েক বছর পর সেখান থেকেই ইয়ামাল বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর দ্রুতই স্পেনের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তখনই অনেকের নজরে আসে, শিশুটি আসলে বর্তমান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
আলোকচিত্রী মনফোর্ত বলেন, হাজারো ছবির মধ্যে এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ। তাঁর ভাষায়, ইয়ামাল যদি এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে ছবিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।
এবার সেই ছবির দুই চরিত্রই বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ছবিটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
BanglaDock