`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

ভল্টে কোটি টাকার রহস্য, এক হাজার টাকার বান্ডিলে মিলল ১০০ টাকার নোট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 13, 2026 ইং
ভল্টে কোটি টাকার রহস্য, এক হাজার টাকার বান্ডিলে মিলল ১০০ টাকার নোট ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রামের লালদীঘি (পূর্ব) করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। টাকার বান্ডিলের ওপরের দিকে এক হাজার টাকার নোট রেখে ভেতরে ১০০ টাকার নোট ভরে রাখা হতো। বাইরে থেকে দেখে পুরো বান্ডিলই এক হাজার টাকার নোটে ভরা মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল অনেক কম। এভাবেই ধাপে ধাপে ভল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা।


ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাখার ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে এক হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজাতেন। ফলে ভল্টে থাকা টাকার প্রকৃত পরিমাণ আড়াল করা সম্ভব হতো এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়েনি।


গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের নিয়মিত লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় ভল্টে থাকা টাকার সঙ্গে হিসাবের গরমিল ধরা পড়ে। পরে নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা, বাস্তবে রয়েছে তার চেয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয় এবং জাফরুল্লাহ তানভীর নামের একজনকে খামারটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি (পূর্ব) করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ ১০ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।


পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।


তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ব্যাংকে প্রতিদিনের লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর নিয়ম থাকলেও এত দিন পর এই বিশাল ঘাটতি ধরা পড়ায় ভল্ট ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামে তিন দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, নেই খাবার-পান

চট্টগ্রামে তিন দিন ধরে পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, নেই খাবার-পান