মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন এক যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দৃঢ়তা, সাহস ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদারতার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে রাখাইনে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা, নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি এবং ত্রাণ ও বাণিজ্যের ওপর অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে।
কূটনৈতিক মিশনগুলো বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয়। প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা রাখাইনে ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলো। ততদিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংকট দশম বছরে প্রবেশ করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন বিস্মৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।
BanglaDock