কক্সবাজারের পর্যটন জোনে পুলিশ বক্স নির্মাণের কথা বলে বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও রিসোর্ট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াবুল হককে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ পৌরসভার সৈকতপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
গ্রেফতার জিয়াবুল হক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়াপাড়ার আকতার কামালের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সৈকতপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি ‘আবরার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং ও মোবাইল এক্সেসরিজের দোকান পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটি চক্র কক্সবাজার শহরের সীগাল হোটেল, হোটেল সাম্পান, হোটেল কক্স টুডেসহ বিভিন্ন তারকামানের হোটেল ও রিসোর্টে যায়। এ সময় চক্রের সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। তারা ওইসব এলাকায় স্থায়ী পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হবে বলে জানায় এবং এর জন্য অর্থ সহযোগিতার কথা বলে টাকা দাবি করে।
পুলিশের দাবি, পুলিশ বক্স নির্মাণের বিষয়টি সামনে রেখে হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কক্সবাজার সদর থানায় প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর-১২ এবং এর তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জিয়াবুল হকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে বুধবার সৈকতপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভিন্ন অ্যাকাউন্টের চেক বই এবং ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব চেক বই ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চক্রটি হোটেল ও রিসোর্টের কাছ থেকে টাকা আদায়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা লেনদেন করত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গ্রেফতার জিয়াবুল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত থাকতে পারেন, তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানের পর পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে হোটেল ও রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতারক চক্রের সদস্যরা যাতে সরকারি সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ পরিচয়ে কেউ কোনো ধরনের অর্থ দাবি করলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
BanglaDock