রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটা, চিনি কম খাওয়া ও পরিমিত খাবারের পাশাপাশি পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের কঙ্কালপেশি রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণের অন্যতম প্রধান স্থান। তাই পেশি সক্রিয় রাখা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
খাবার খাওয়ার পর গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে কঙ্কালপেশিসহ শরীরের বিভিন্ন টিস্যু তা গ্রহণ করে। শারীরিক পরিশ্রমের সময় পেশির গ্লুকোজের চাহিদা বাড়ে। নিয়মিত পেশিশক্তির ব্যায়াম ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতাও বাড়াতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেশিশক্তির ব্যায়াম দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সূচক ও খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি হাঁটা, অন্যান্য ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বা প্রয়োজনীয় ওষুধের বিকল্প নয়।
বাড়িতেই সহজ কিছু ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। যেমন—চেয়ার থেকে ওঠাবসা, দেয়ালে ভর দিয়ে বুকডন, কয়েক সেকেন্ড প্ল্যাঙ্ক এবং উপযুক্ত কোনো জিনিস নিরাপদভাবে অল্প দূরত্ব বহন করা। শুরুতে ১০ মিনিটের মতো সময় দিয়ে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম করা যেতে পারে।
ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত ভার নেওয়া বা ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ব্যায়ামের কারণে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই নতুন ব্যায়ামের রুটিন শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের হাঁটার পাশাপাশি নিয়মিত পেশিশক্তির ব্যায়াম শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটিকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা নিরাময় হিসেবে না দেখে নিয়মিত জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে নেওয়া উচিত।
BanglaDock