বর্তমানে দেশের অনেক বাড়িতেই রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তবে সিলিন্ডার, রেগুলেটর, পাইপ বা সংযোগস্থলে ত্রুটি দেখা দিলে গ্যাস লিক হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই গ্যাস লিকেজের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা এবং এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
গ্যাস লিক হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র গন্ধ। এলপিজি নিজে গন্ধহীন হলেও নিরাপত্তার জন্য এতে বিশেষ গন্ধযুক্ত পদার্থ মেশানো থাকে। ফলে রান্নাঘর বা বাড়ির কোনো অংশে হঠাৎ অস্বাভাবিক গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
আরেকটি লক্ষণ হতে পারে সিলিন্ডার, রেগুলেটর বা পাইপের কাছ থেকে হিসহিস শব্দ শোনা। লিকেজের স্থান দিয়ে চাপের গ্যাস বের হওয়ার সময় এ ধরনের শব্দ হতে পারে। তবে ছোট লিক হলে সবসময় শব্দ শোনা নাও যেতে পারে।
গ্যাসের পরিমাণ বেশি হলে বদ্ধ ঘরে বাতাসের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ওই স্থান থেকে বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়া উচিত।
গ্যাস লিকের সন্দেহ হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনোভাবেই আগুন বা স্পার্ক তৈরি না করা। দেশলাই, লাইটার, মোমবাতি কিংবা সিগারেট জ্বালানো যাবে না। একইভাবে ঘরের বৈদ্যুতিক সুইচ, ফ্যান, লাইট, প্লাগ বা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র অন-অফ করাও এড়িয়ে চলতে হবে। এমনকি গ্যাসের গন্ধ পরীক্ষা করতে আগুন ধরিয়ে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
যদি নিরাপদভাবে করা সম্ভব হয় এবং গ্যাসের গন্ধের উৎসের খুব কাছে যেতে ঝুঁকি না থাকে, তাহলে রেগুলেটরের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা যেতে পারে। এরপর দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে জমে থাকা গ্যাস বাইরে বের হয়ে যেতে পারে। তবে এ কাজ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না।
গ্যাসের গন্ধ তীব্র হলে বা লিকেজের মাত্রা বোঝা না গেলে রান্নাঘরে অবস্থান না করে দ্রুত সবাইকে নিয়ে বাড়ির বাইরে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে হবে। এরপর গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, ফায়ার সার্ভিস বা সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা উচিত। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ির ভেতরে ফিরে যাওয়া ঠিক নয়।
এ ছাড়া নিয়মিত সিলিন্ডার, রেগুলেটর, পাইপ ও সংযোগস্থল পরীক্ষা করা জরুরি। পুরোনো, ফাটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া গ্যাসের পাইপ ব্যবহার না করে নির্ধারিত মানের পাইপ ব্যবহার করা উচিত। সিলিন্ডার সবসময় সোজা অবস্থায়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে এবং চুলার একেবারে পাশে অতিরিক্ত তাপের মধ্যে রাখা যাবে না।
গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তনের পর রেগুলেটর ও সংযোগস্থল ঠিকভাবে বসেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। লিকেজ সন্দেহ হলে নিজে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মেরামত না করে প্রশিক্ষিত বা অনুমোদিত ব্যক্তির সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।
সামান্য অসতর্কতা থেকেই এলপিজি গ্যাস বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই গ্যাসের অস্বাভাবিক গন্ধ, হিসহিস শব্দ কিংবা শারীরিক অস্বস্তি—যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত সতর্ক হওয়া এবং আগুন ও বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
BanglaDock