বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী অভিনয়ের পাশাপাশি ওটিটি সিরিজেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত এই অভিনেতা আত্মজীবনী ‘অ্যান অর্ডিনারি লাইফ’ প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন। বইটিতে নিজের প্রেম, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।
আত্মজীবনীতে নওয়াজউদ্দিন ‘মিস লাভলি’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী নিহারিকা সিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বিস্তারিতভাবে লেখেন। বইয়ে তিনি তাদের প্রথম ঘনিষ্ঠ হওয়ার ঘটনাটিও বর্ণনা করেন। নওয়াজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একসময় নিহারিকার বাড়িতে যান। সেখানে ঘরে মোমবাতি জ্বলছিল এবং নিহারিকা পশমি পোশাক পরেছিলেন। ওই পরিবেশেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে বইয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
নওয়াজউদ্দিন সেই সময় নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজেকে ‘কামুক গ্রাম্য গেঁয়ো’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের সম্পর্ক কীভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে তা এগিয়েছিল, সে বিষয়েও আত্মজীবনীতে বিস্তারিত লিখেছেন তিনি। বইয়ে দাবি করা হয়, তাদের সম্পর্ক প্রায় দেড় বছর স্থায়ী হয়েছিল।
তবে আত্মজীবনী প্রকাশের পর নওয়াজউদ্দিনের এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন নিহারিকা সিং। তার অভিযোগ, নওয়াজউদ্দিন তার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বইয়ে তাদের সম্পর্কের সময়কাল ও বিভিন্ন ঘটনা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।
নিহারিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সম্পর্ক মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয়েছিল। তার অভিযোগ, সম্পর্কের সময় নওয়াজউদ্দিন তার বিয়ের বিষয়টি গোপন করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, নওয়াজউদ্দিনের গ্রামে স্ত্রী রয়েছে।
শুধু নিহারিকা নন, আত্মজীবনীতে নাম উঠে আসা নওয়াজউদ্দিনের আরেক সাবেক প্রেমিকা সুনীতা রাজওয়ারও বইটির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ ছিল, অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবন তুলে ধরতে গিয়ে অন্যদের ব্যক্তিগত বিষয়ও প্রকাশ্যে এনেছেন।
আত্মজীবনীতে নওয়াজউদ্দিন নিজের সম্পর্কের ধরন নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, একসময় নারীদের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার শারীরিক আকর্ষণ বড় ভূমিকা রাখত এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের চাহিদাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি নিজেকে স্বার্থপর বলেও উল্লেখ করেন। তার সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নারীদের অভিযোগও ছিল, তিনি তাদের অনুভূতির চেয়ে নিজের চাহিদাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
বইটি প্রকাশের পর এসব ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশের অভিযোগে আইনি জটিলতার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে নওয়াজউদ্দিন আত্মজীবনীটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চান। অভিনেতা বলেন, কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না এবং বইয়ে তাদের নাম উল্লেখ করাও ঠিক হয়নি।
পরবর্তী সময়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে নওয়াজউদ্দিন বলেন, সত্য অনেক সময় সবার কাছে তিক্ত মনে হয়। ভবিষ্যতে এভাবে ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তিনি আর একই ভুল করবেন না বলেও জানান।
BanglaDock