নারীদের ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসার অন্যতম। তবে স্তনে ব্যথা, সিস্ট কিংবা চাকা দেখা দিলেই তা ক্যানসার—এমনটি নয়। স্তনের টিস্যুতে বিভিন্ন কারণে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা পরিবর্তন হলে পিণ্ড তৈরি হতে পারে, যার অনেকগুলোই নিরীহ।
চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সি নারীদের স্তনে নড়াচড়া করে এমন ব্যথাহীন চাকা দেখা দিলে সেটি ফাইব্রোএডেনোমা বা নিরীহ টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার সংক্রমণ বা ফোড়ার কারণে পিণ্ড তৈরি হলে সাধারণত ব্যথা হয় এবং ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন কিংবা সিস্টের কারণেও স্তনে চাকা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, ক্যানসারজনিত টিউমার দ্রুত বড় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্তনের ত্বকে পরিবর্তন, বগলে চাকা কিংবা নিপল দিয়ে রক্ত বা লালচে তরল বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও স্তনের অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্তনে কোনো চাকা বা পিণ্ড অনুভব করলে অবহেলা না করে সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড, ম্যামোগ্রাফি অথবা উভয় পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে কোর বায়োপসি বা এফএনএসি পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি হরমোনজনিত কোনো সমস্যা আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হতে পারে।
কোর বায়োপসি করার পরামর্শ দিলে ভয় পেয়ে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেকের ধারণা, বায়োপসি করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এই আশঙ্কায় পরীক্ষা বন্ধ রাখা ঠিক নয়। বায়োপসির মাধ্যমে টিউমারটি ক্যানসার কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
স্তন ক্যানসার ছাড়া অন্য কারণে তৈরি টিউমার দুই সেন্টিমিটারের বেশি হলে বা ক্রমাগত বড় হতে থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। ফোড়া বা সংক্রমণজনিত টিউমার ওষুধে না সারলে কিংবা দীর্ঘদিনেও না কমলে অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তবে ছোট সিস্টের ক্ষেত্রে সাধারণত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, স্তনে চাকা মানেই ক্যানসার নয়; তবে কোনো অস্বাভাবিকতাকেই অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমেই পিণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
BanglaDock