সবুজ পাহাড়, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, ঝরনা, পাথুরে তটরেখা ও মেরিন ড্রাইভ ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। রেল, সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ উন্নয়নের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন অবকাঠামো। তবে ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত পর্যটন বিকাশে এখনো রয়েছে নানা ঘাটতি।
কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন এবং বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সাগরপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক, রেজুখাল, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় আলাদা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় পর্যটকবান্ধব গণপরিবহন, পার্কিং, পাবলিক টয়লেট, নিরাপদ খাবার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যকেন্দ্র ও নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। দূরের সৈকতগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও উদ্ধারব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় পর্যটকদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ককে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের পর্যটন হাব গড়ে তোলার উদ্যোগও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্ট মার্টিনে যাতায়াতের জন্য আধুনিক জেটি নির্মাণ এবং মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটন, যোগাযোগ, নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিবছর কক্সবাজারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ পর্যটক আসেন। শহর ও আশপাশে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে পর্যটনকে দীর্ঘ সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে দিতে ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, গণপরিবহন, পর্যটক সহায়তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
BanglaDock