পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় সরকার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ এবং সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বিজিএসের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও এনরুট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা দ্বীপের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তারাই দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপের পরিবেশ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া দ্বীপের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, সেন্টমার্টিন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সুপারিশ পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ এবং দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়গুলো সমন্বয় করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বন ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় ক্ষয় এবং পরিবেশ দূষণের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে এনরুট ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গত তিন বছরে সারাদেশে প্রায় ৩২ লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সহায়তা করতে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৭৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
BanglaDock