`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

গ্যাস সংকট থাকতে পারে আরও দুই সপ্তাহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
গ্যাস সংকট থাকতে পারে আরও দুই সপ্তাহ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

দেশে চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এ সময়ে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি আরও বাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।


জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শর্টসার্কিটে টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রকৌশলীরা মেরামত কাজ করছেন। আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে পুরো সক্ষমতায় ফিরতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।


পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ও যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ চলছে। কবে নাগাদ পুরোপুরি কাজ শেষ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। দ্রুত টার্মিনাল চালুর জন্য এক্সিলারেট এনার্জিকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তবে তারা এখনও নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।


গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আবাসিক খাতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ বাড়লে পরদিনের রান্না সেরে রাখছেন।


সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকট তীব্র হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। খোলা থাকা স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, প্রয়োজনীয় চাপের তুলনায় অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ অর্ধেকেরও কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে স্টেশন পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।


গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্প খাতেও উৎপাদন কমাতে হয়েছে। অনেক কারখানা বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রপ্তানি আদেশ সরবরাহেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।


বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আগে ছিল প্রায় ৯০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বৃষ্টি কমে তাপমাত্রা বাড়লে এবং শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, তখন লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এবার সয়াবিন তেলেও মিলল বিপুল মাইক্রোপ্লাস্টিক

এবার সয়াবিন তেলেও মিলল বিপুল মাইক্রোপ্লাস্টিক