`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারে ভাসমান ভেলায় ঝিনুক-কোরাল চাষ, খুলছে নতুন দুয়ার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 9, 2026 ইং
কক্সবাজারে ভাসমান ভেলায় ঝিনুক-কোরাল চাষ, খুলছে নতুন দুয়ার ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ভাসমান ভেলার মাধ্যমে সবুজ ঝিনুক ও সামুদ্রিক কোরাল মাছ চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতিতে স্থানীয় বেকার ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।


কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর মোহনা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এ ভাসমান খামার। বাঁশ, দড়ি ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি ভেলার নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সবুজ ঝিনুকের বীজ। জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক স্রোত ও নোনাজলের অনুকূল পরিবেশে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ছাড়াই বেড়ে উঠছে ঝিনুক।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাসের মধ্যেই ঝিনুক বাজারজাত করার উপযোগী হয়। দেশে এর চাহিদা বাড়ছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।


একই ভাসমান কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত জালের খাঁচায় চাষ করা হচ্ছে উচ্চমূল্যের কোরাল মাছ। নিয়মিত খাদ্য ও পরিচর্যার মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যে মাছগুলো বিক্রিযোগ্য আকার ধারণ করে। বাজারে কোরাল মাছের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ছবি: ভাসমান ভেলায় চাষ হচ্ছে কোরাল মাছও।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া খারাপ থাকা বা মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার সময় সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ভাসমান খামার বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবুজ ঝিনুক চাষি আনোয়ার মিয়া জানান, ২০১৮ সাল থেকে ভেলায় সবুজ ঝিনুক চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছেন।


মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল থাকায় আবহাওয়া খারাপ হলে বা নিষেধাজ্ঞা এলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যেত। এখন ভেলায় ঝিনুক ও কোরাল মাছ চাষ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এ চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব বলেও জানা চাষিরা।


প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বাস্তবায়ন করছে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় চাষিদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও আধুনিক সামুদ্রিক চাষাবাদ বিষয়ে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।


আইডিএফের মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত নোনাজল ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় ভাসমান ভেলায় সবুজ ঝিনুক ও সামুদ্রিক মাছ চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সরকারি সংস্থা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা পেলে এটি উপকূলীয় মানুষের জন্য লাভজনক ও টেকসই জীবিকার উৎস হতে পারে।


তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণে সহজ শর্তে ঋণ, উন্নতমানের পোনা ও ঝিনুকের বীজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ভাসমান ভেলায় ঝিনুক ও কোরাল মাছ চাষ দেশের নীল অর্থনীতির একটি সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিরাজকে সরিয়ে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে লিটন, সহঅধিনায়ক তাওহীদ হৃ

মিরাজকে সরিয়ে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে লিটন, সহঅধিনায়ক তাওহীদ হৃ