ইয়াবা কারবারে জড়িত প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও বাহকদের নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে টেকনাফে অপহরণ প্রতিরোধে আরও দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নবিষয়ক এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক চোরাকারবারি, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ইয়াবা বহনকারীদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করে নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হবে। কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকার মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স কমিটি এ তালিকা প্রণয়ন করবে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইয়াবা পাচার ও মাদকের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ক্যামেরা পুরোপুরি সচল করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর এ বিষয়ে দেশের প্রথম সমন্বয় সভা কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন আইনের আলোকে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হবে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নাফ নদে মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে জেলে ও নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। উখিয়া ও টেকনাফের জেলে ও নৌযানের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান ১১টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে নজরদারিতে আনা হবে।
টেকনাফ ও উখিয়ায় অপহরণের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। অপহরণ প্রতিরোধে টেকনাফে আরও দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
BanglaDock