`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা বাঁচাতে বদলে ফেলুন এই সেটিংসগুলো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং
ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা বাঁচাতে বদলে ফেলুন এই সেটিংসগুলো ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

স্মার্টফোনে এমন অনেক ফিচার রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার না করলেও নেপথ্যে সক্রিয় থাকতে পারে। অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, স্বয়ংক্রিয় আপডেট, লোকেশন স্ক্যানিং কিংবা বিভিন্ন পারমিশনের কারণে ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা খরচ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সেটিংস পরিবর্তন করলে অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম কমানোর পাশাপাশি ফোনের গোপনীয়তাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।


প্রথমেই Play Store-এর অটো-আপডেট নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একসঙ্গে অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হলে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি খরচ বাড়তে পারে। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপ আপডেট করতে চাইলে Play Store > Profile picture > Settings > Network preferences > Auto-update apps-এ গিয়ে ‘Don’t auto-update apps’ নির্বাচন করা যায়। তবে অটো-আপডেট বন্ধ করলেও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা আপডেট নিয়মিত করা উচিত।


দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন না থাকলে Wi-Fi ও Bluetooth scanning বন্ধ রাখা যেতে পারে। ফোনের Wi-Fi বা Bluetooth বন্ধ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে স্ক্যানিং ফিচার আশপাশের নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে। লোকেশন নির্ভুল করতে এসব ফিচার কাজে লাগতে পারে, তাই একেবারে প্রয়োজন না থাকলে এগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। Settings > Location > Location Services থেকে Wi-Fi scanning এবং Bluetooth scanning-এর অপশন পাওয়া যেতে পারে। তবে ফোনের মডেল ও Android সংস্করণ অনুযায়ী অবস্থান আলাদা হতে পারে।


তৃতীয়ত, কম ব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা সীমিত করা যেতে পারে। কোনো অ্যাপ খোলা না থাকলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার করতে পারে—যেমন নতুন তথ্য সংগ্রহ, কনটেন্ট আপডেট বা নোটিফিকেশনের জন্য। Google-এর নির্দেশনাতেও ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটার মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহারকারীর অজান্তে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্ষেত্রে Settings > Apps > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > Mobile data usage বা Mobile data & Wi-Fi-এ গিয়ে Background data বন্ধ করা যায়। তবে মেসেজিং, ই-মেইল, ব্যাংকিং বা জরুরি নোটিফিকেশন প্রয়োজন এমন অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করলে নোটিফিকেশন দেরিতে আসতে পারে। তাই সব অ্যাপের ক্ষেত্রে একই সেটিং ব্যবহার না করাই ভালো।


চতুর্থত, অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় পারমিশন সরিয়ে দেওয়া উচিত। অনেক অ্যাপ লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কনট্যাক্টস, ছবি বা অন্যান্য তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চায়। কিন্তু কোনো অ্যাপের কাজের জন্য যে পারমিশন প্রয়োজন নেই, সেটি চালু রাখারও কারণ নেই। Android-এ Settings > Apps > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > Permissions থেকে অনুমতি পরিবর্তন করা যায়। অনেক ফোনে Privacy বা Permission Manager থেকেও একই কাজ করা যায়।


এখানে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। কোনো অ্যাপ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে Android-এর কিছু সংস্করণ অব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ এবং নির্দিষ্ট পারমিশন প্রত্যাহার করতে পারে। ফলে পুরোনো বা কম ব্যবহৃত অ্যাপের তালিকাও মাঝে মাঝে দেখে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করা যেতে পারে।


পঞ্চমত, ‘Mobile data always active’ ফিচারটি প্রয়োজন না হলে বন্ধ রাখা যেতে পারে। Developer options-এ থাকা এই অপশন Wi-Fi ব্যবহারের সময়ও মোবাইল ডেটা সক্রিয় রাখতে পারে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করা যায়। তবে সাধারণ ব্যবহারে এ সুবিধা সবার প্রয়োজন নাও হতে পারে।


ফিচারটি বন্ধ করতে Settings > About phone > Build number-এ পরপর সাতবার ট্যাপ করে Developer options চালু করতে হয়। এরপর Settings > System > Developer options-এ গিয়ে ‘Mobile data always active’ বন্ধ করা যেতে পারে। তবে Developer options-এর অন্য কোনো সেটিংস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে সেগুলো পরিবর্তন না করাই নিরাপদ।


শুধু এসব সেটিংস নয়, ব্যাটারি বাঁচাতে ফোনের Battery Saver ব্যবহার করাও কার্যকর হতে পারে। Android-এর Battery Saver ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করতে পারে এবং কিছু ফিচার বা নেটওয়ার্ক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আনতে পারে। ফলে চার্জ কমে গেলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।


এ ছাড়া কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি বা ডেটা ব্যবহার করছে, সেটিও নিয়মিত দেখা উচিত। অনেক সময় ব্যবহারকারী মনে করেন ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ ফোনের বয়স, অথচ পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ অতিরিক্ত রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ বা সরিয়ে দিলে এ ধরনের সমস্যা কমতে পারে।


মোবাইল ডেটা বাঁচাতে ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপে উচ্চমানের ভিডিও সবসময় চালু না রাখাও ভালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও অটোপ্লে বন্ধ রাখা, প্রয়োজন না হলে অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা সীমিত করা এবং বড় ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে Wi-Fi ব্যবহার করলেও ডেটা খরচ কমানো সম্ভব।


গোপনীয়তার দিক থেকেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। Android-এর Privacy Dashboard থেকে কোন অ্যাপ কখন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অন্যান্য সংবেদনশীল পারমিশন ব্যবহার করেছে, তা দেখা যায়। ফলে অস্বাভাবিক কোনো অ্যাপের কার্যক্রম চোখে পড়লে তার পারমিশন পরিবর্তন করা সম্ভব।


তবে ব্যাটারি বা ডেটা বাঁচাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। এতে মেসেজ, ই-মেইল, লোকেশন-ভিত্তিক সেবা, স্মার্টওয়াচ বা অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইসের নোটিফিকেশন ও সিঙ্কিংয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই কোন অ্যাপ বা ফিচার প্রয়োজনীয়, তা বুঝে সেটিংস পরিবর্তন করাই ভালো।


সবশেষে, ফোনের ব্র্যান্ড, মডেল ও Android সংস্করণভেদে সেটিংসের নাম ও অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো সেটিংস পরিবর্তনের আগে সেটির কাজ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। পাশাপাশি অচেনা কোনো অ্যাপ যদি অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক পারমিশন চায়, সেটি অনুমোদন না করে অ্যাপটির প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা নিরাপদ। Google-ও অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক অ্যাপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে এবং বিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়।


কিছু ছোট পরিবর্তন তাই শুধু ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা সাশ্রয়ই নয়, ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম কমানো এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’